বার্ষিক কমোডিটি সূচক সমন্বয় (রিব্যালান্সিং) ঘিরে ফিউচার্স মার্কেটে মূল্যবান ধাতু বিক্রি বাড়তে পারে। এমন সম্ভাবনায় আন্তর্জাতিক বাজারে গতকাল স্বর্ণের দাম কমেছে। একই সঙ্গে ডলারের বিনিময় হার বেড়ে যাওয়ায় অন্যান্য দেশের ক্রেতাদের কাছে ধাতুটি ব্যয়বহুল হয়ে উঠেছে। ফলে চাহিদা কমে যাওয়ায় দাম কমেছে স্বর্ণের। খবর রয়টার্স।
স্পট মার্কেটে স্বর্ণের দাম গতকাল দশমিক ৬ শতাংশ কমেছে। প্রতি আউন্সের মূল্য নেমেছে ৪ হাজার ৪২৭ ডলার ৪৮ সেন্টে। একই সময় ফেব্রুয়ারিতে সরবরাহের জন্য যুক্তরাষ্ট্রের ফিউচার মার্কেটে স্বর্ণের আউন্সপ্রতি দাম ছিল ৪ হাজার ৪৩৫ ডলার ৪০ সেন্ট। এটিও আগের দিনের তুলনায় দশমিক ৬ শতাংশ কম।
স্যাকসো ব্যাংকের কমোডিটি স্ট্র্যাটেজি বিভাগের প্রধান ওলে হ্যানসেন বলেন, ‘বার্ষিক কমোডিটি সূচক সমন্বয় শুরু হওয়ায় স্বর্ণ ও রুপার দাম কমেছে। আগামী পাঁচদিনে কোমেক্স ফিউচার্স মার্কেটে প্রতিটি ধাতুতেই প্রায় ৬-৭ বিলিয়ন ডলারের বিক্রি দেখা যেতে পারে।’
বার্ষিক ব্লুমবার্গ কমোডিটি ইনডেক্স রিব্যালান্সিংয়ের উদ্দেশ্য হলো বৈশ্বিক পণ্যবাজারের বর্তমান পরিস্থিতির সঙ্গে সূচকের ভারসাম্য বজায় রাখা। চলতি বছর এ রিব্যালান্সিংয়ের সময় নির্ধারণ হয়েছে ৯-১৫ জানুয়ারি পর্যন্ত।
হ্যানসেন আরো বলেন, ‘ভেনিজুয়েলা পরিস্থিতির কারণে সপ্তাহের শুরুতে স্বর্ণের দাম বেড়েছিল। তবে বর্তমানে সে প্রভাব কমে আসছে। কারণ বিনিয়োগকারীদের এখন মূল মনোযোগ রিব্যালান্সিংয়ের দিকে।’
বিনিয়োগকারীরা বর্তমানে মুদ্রানীতির দিকনির্দেশনা সম্পর্কে আরো স্পষ্ট ধারণা পেতে যুক্তরাষ্ট্রের কর্মসংস্থানসংক্রান্ত তথ্যের অপেক্ষায় রয়েছেন। বাজার বিশ্লেষকদের হিসাব অনুযায়ী, চলতি বছর যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় ব্যাংক ফেডারেল রিজার্ভ (ফেড) দুই দফায় সুদহার কমাতে পারে।
স্পট মার্কেটে গতকাল রুপার দাম ৩ দশমিক ১ শতাংশ কমেছে। প্রতি আউন্সের মূল্য নেমেছে ৭৫ ডলার ৭৩ সেন্টে। গত ২৯ ডিসেম্বর ধাতুটির দাম আউন্সপ্রতি রেকর্ড ৮৩ ডলার ৬২ সেন্টে পৌঁছেছিল।
বিনিয়োগ ব্যাংক এইচএসবিসির বিশ্লেষকরা জানিয়েছেন, ভূরাজনৈতিক ঝুঁকি ও বাড়তে থাকা সরকারি ঋণের চাপের কারণে ২০২৬ সালের প্রথমার্ধে স্বর্ণের দাম আউন্সপ্রতি ৫ হাজার ডলারে পৌঁছতে পারে। এছাড়া সরবরাহ ঘাটতি, শক্তিশালী বিনিয়োগ চাহিদা ও উচ্চ স্বর্ণমূল্যের প্রভাবে ২০২৬ সালে রুপার দাম আউন্সপ্রতি ৫৮-৮৮ ডলারের মধ্যে লেনদেন হতে পারে।
অন্যান্য মূল্যবান ধাতুর দামও গতকাল কমেছে। স্পট মার্কেটে এ সময় প্লাটিনামের দাম কমেছে ৪ দশমিক ২ শতাংশ। প্রতি আউন্সের মূল্য নেমেছে ২ হাজার ২০৯ ডলার ৫০ সেন্টে। এছাড়া এ সময় প্যালাডিয়ামের দাম ৪ দশমিক ৪ শতাংশ কমে নেমেছে আউন্সপ্রতি ১ হাজার ৬৮৭ ডলারে।